গাজীপুরে মূলবেতনের শতভাগ ঈদবোনাস পরিশোধের দাবীতে মঙ্গলবার এক পোশাক কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে।
এসময় শ্রমিকরা ব্যাপক ভাংচুর, সড়ক অবরোধ কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করেছে। সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্ততঃ ১২ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড সর্টগানের গুলি ও টিয়ার সেল ছুঁড়েছে।
পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয়রা জানায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নলজানী এলাকাস্থিত কোজিমা লিরিক গার্মেন্টস ফ্যাশন লি: কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবীর প্রেক্ষিতে এবারের রমজানের ঈদে ৫০ ভাগ পরে ৭০ ভাগ ঈদবোনাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়াও কারখানা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি শ্রমিকদের হাজিরা বোনাস ও ইনক্রিমেন্ট শতকরা দশভাগ থেকে পাঁচভাগ কমিয়ে দেয়। কিন্তু শ্রমিকরা তা মেনে না নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে শতভাগ ঈদবোনাস এবং শতকরা দশভাগ হাজিরা বোনাস ও ইনক্রিমেন্ট পরিশোধের দাবী জানিয়ে আসছিল। কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবী মেনে না নেয়ায় আন্দোলনরত শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার দুপুরের বিরতি শুরু হলে শ্রমিকরা কারখানা গেইটে জড়ো হয়ে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করে।
এসময় তারা কারখানার সামনে ঢাকা–গাজীপুর সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়কের উপর থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল ছুঁড়লে পুলিশ লাঠি চার্জ করে। এতে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। উত্তেজিত শ্রমিকরা কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। এসময় তারা কারখানার ভিতরে হামলা চালিয়ে মেশিনপত্র বিভিন্ন মালামাল ব্যাপক ভাংচুর ও তছনছ করে। একপর্যায়ে পুলিশ কারখানার ভিতরে ও বাইরে বেশ কয়েক রাউন্ড সর্টগানের গুলি ও টিয়ার সেল ছুড়ে বেলা আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এঘটনায় চার পুলিশসহ অন্ততঃ ১২ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধসহ আহত ৬জনকে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ এদিন কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে।
কারখানার ম্যানেজার অপূর্ব লাল হাওলাদার জানান, ইতোপূর্বে রমজানের ঈদে শ্রমিকদেরকে ৭০ ভাগ ঈদবোনাস পরিশোধ করা হলেও এবার শ্রমিকরা তা মেনে নেয়নি। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার আরো দশ ভাগ বাড়িয়ে এবারের রমজানের ঈদ বোনাস ৮০ ভাগ করার ঘোষণা দেয়ার পরও শ্রমিকরা অযৌক্তিভাবে এঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার পর হতে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়নি।
শিল্পাঞ্চল পুলিশ–২ (গাজীপুর)-এর সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার তাহমিদুল ইসলাম জানান, মূলবেতনের শতভাগ ঈদবোনাসসহ হাজিরা বোনাস ও ইনক্রিমেন্ট বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকরা মঙ্গলবার দুপুরে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ, ভাংচুর ও সড়ক অবরোধ করে। শ্রমিকদের দাবীর প্রেক্ষিতে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রথমে মূলবেতনের ৫০ভাগ ও পরে ৭০ভাগ ঈদ বোনাস প্রদানের আশ্বাস দিলেও শ্রমিকরা তা মেনে নেয় নি। একপর্যায়ে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে কারখানাসহ ভাংচুর ও সড়ক অবরোধ এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট–পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। পরে পুলিশ কয়েক রাউন্ড সর্টগানের গুলি ও টিয়ার সেল ছুঁড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে বেলা আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে ঢাকা–গাজীপুর সড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।