কাপাসিয়ায় দিন ব্যাপী ওয়েব সাইড ব্রাউজিং ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার শীষর্ক প্রশিক্ষন কর্মশালা

rimi11

জমিয়াতুল মোদার্রেছীন কাপাসিয়া উপজেলা শাখার  আয়োজনে শনিবার  সকালে উপজেলার কাপাসিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা (বরুন)হল রুমে দিন ব্যাপী ওয়েব সাইড ব্রাউজিং ও শিক্ষা ক্ষেত্রে এর ব্যবহার শীষর্ক প্রশিক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। জমিয়াতুল মোদার্রেছীন কাপাসিয়া উপজেলা শাখার  সভাপতি ও রাউৎকোনা ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিমিন হোসেন রিমি এম পি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ কে এম ছায়েফ  উল্লাহ, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন এর কেন্দ্রীয় মহা সচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী। অন্যন্যাদের মাঝে বক্তব্য রাখেন কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ,কাপাসিয়া উপজেলা নিবার্হী অফিসার আনিসুর রহমান, কাপাসিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ডা: এম এ কাদের, উপজেলা মাধ্যামিক শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ,  কাপাসিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল হক, জমিয়াতুল মোদার্রেছীন কাপাসিয়া উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক মাওলানা বিল্লাল হোসেন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্থানীয় এমপি সিমিন হোসেন রিমি বলেন, একজন আর্দশ শিক্ষকের ভুমিকা পিতা মাতার চেয়ে কম নয়। শিক্ষক ভাল মানুষ তৈরীর প্রধান কারিগর। শিক্ষকই ছাত্রদেরকে প্রভাবিত করতে পারেন। তাই একজন শিক্ষককে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। যিনি যত জ্ঞান অর্জন করবেন তিনি তত বেশী জ্ঞান বিতরন করতে পারবেন। ছাত্রদের মাঝে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। নৈতিকতাহীন মানুষ কখনো প্রকৃত মানুষ হতে পারে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কাউট আন্দোলন জোড়দার করতে হবে। স্কাউট চরিত্র গঠনে ভুমিকা রাখতে পারে। ইসলাম নারীকে যে ভাবে সন্মানিত করেছে অন্য কোন ধর্ম সে ভাবে সন্মানিত করেনি। কোরান শরীফে বিজ্ঞানের কথা বলা হয়েছে। কোরান শরীফে মানুষ সৃস্টি সম্পার্কে বৈজ্ঞানিক আলোচনা রয়েছে। আল্লাহ বলেছেন ইকরা-পড়। আমাদের প্রথমে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আমাদেরকে এমন শিক্ষা দিতে হবে যাতে সমাজে খারাপ মানুষের সংখ্যা কমে যায়এবং ভাল মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিছু লোক সব সময় তাবেদারী করে। ব্রটিশ ও পাকিস্তান আমলে ও তাবেদার সৃস্টি করা হয়েছিল।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান(ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম ছায়েফ উল্লাহ বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার ইতিহাস র্দীঘ দিনের। ১৭৮০ সালে কিছু মুসলিম চিন্তাবিদ ওয়ারেন হেস্টিং এর কাছে মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য প্রস্তাব করেছিল। মে প্রস্তাবের আলোকে কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২৩৫ বছরের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বর্তমান অবস্থায় আসতে পেরেছে। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারও বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের ভুমিকা প্রশংসার দাবীদার। তিনি বলেন, এ উপমহাদেশে ধর্মীয় শিক্ষা ও টোল শিক্ষার মাধ্যমেই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। মাদ্রাসা শিক্ষাকে অনুনিকিকরন করতে হবে। বর্তমানে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার দ্বারা শুধু আলেমই তৈরী হচ্ছে না ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ও তৈরী হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তিতে এ শিক্ষা পিছিয়ে নেই।  মাদ্রাসা শিক্ষার মাধ্যামে ছাত্ররা দেশ পরিচালনায় অংশ গ্রহন করছেন। এক সময় মাদ্রাসার কারিকুলাম ছিল অবহেলিত। বর্তমান সরকারের আমলে মাদ্রাসার কারিকুলামে ও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। মাদ্রাসার সেই অবস্থা এখন আর নেই। তিনি এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষরা যে দিন টাকা পাবে এবতেদায়ীর শিক্ষরাও সে দিনই টাকা পাবে। সরকারী টাকা পেতে দেরী হলে বোর্ডের নিজস্ব তহবিল থেকে শিক্ষকদের টাকা দেয়া হবে।
বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন এর কেন্দ্রীয় মহা সচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী বলেন, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের সর্ব বৃহত্তম অরাজনৈতিক পেশাজীবি সংগঠন। বাংলাদেশের তিন লক্ষ মাদ্রাসা শিক্ষক কর্মচারীদের  ন্যায্যও যৌত্তিক দাবী বাস্তবায়নে এ সংগঠন ঐতিহাসিক ভুমিকা পালন করছে। জমিয়াতুল মোদার্রেছীন  মহা সচিব বলেন, কাপাসিয়ার কৃতি সন্তানন বিশিষ্ঠ আলেমে দ্বীন মরহুম মাওলানা ওয়ারেছ আলী সাহেব এক সময় জমিয়াতুল মোদার্রেছীন   এর সভাপতি ছিলেন। এ এলাকার প্রবীন আলেম অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রহমান বেলাশী জমিয়াতুল মোদার্রেছীন  এর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের মধ্যে কাপাসিয়া উপজেলায় মাদ্রাসার সংখ্যা সবচেয়ে বেশী । এখানে জমিয়তের শক্তিশালী ঘাটি রয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিগত ১০০বছর ধরে এ দেশের মানুষ একটি আরবী বিশ্ববিদ্যায় প্রতিষ্ঠান দাবী করে আসছে। বতর্মান সরকারের আমলে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের    নেতেৃত্বে প্রধান মন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রীর পৃষ্ঠ পোষকতায় একশত বছরের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের র্দীঘ দিনের প্রাণের দাবী ছিল পৃথক মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা। সে দাবী ও পুরন হয়েছে। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মত ৩১টি মাদ্রাসায় ৫টি বিষয়ে আনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। জমিয়াতুল মোদার্রেছীন     মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নায়নে গুরুত্ব পূর্ণ ভুমিকা পালন করে যাচ্ছে। এ শিক্ষার উন্নয়নের জন্যু শিক্ষকদেও আরো বেশী দায়িত্বশীল হতে হবে। বর্ণচোরা ও দুনীতিবাজদের বয়কোট করতে হবে।কিছু চিহ্নত দুনীতিবাজ ব্যক্তির জন্য গোটা মাদ্রাসার শিক্ষক সমাজের বদনাম হতে দেয়া য়ায় না।
দিন ব্যাপী প্রশিক্ষনে উপজেলর ৬৫টি মাদ্রাসা থেকে ২ জন করে ১৩০ জন শিক্ষক শিক্ষিকা অংশ গ্রহন করেন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডেও আই টি বিশেষজ্ঞ একটি টিম এ প্রশিক্ষন প্রদান করেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *