সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড পারফর্ম ও লেন্ডল সিমন্সের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বড় জয় পেয়েছে রংপুর রাইডার্স। বুধবার নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটসকে ৬৯ রানে হারিয়েছে সাকিবের দল। তিন ম্যাচে এটি তাদের দ্বিতীয় জয়।
রংপুর রাইডার্সের দেওয়া ১৭৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১০৭ রান সংগ্রহ করে ঢাকা ডায়নামাইটস।
বড় সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে তৃতীয় ওভারে সাকিবের জোড়া আঘাতে ফিরে যান ঢাকার দুই ওপেনার শামসুর রহমান ও নাসির জামশেদ।
সাকিবের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন শামসুর রহমান (২)। একই ওভারে তার বলে মিড উইকেটে উঠিয়ে মারতে গিয়ে সৌম্যর কাছে ক্যাচ দেন জামশেদ (১১)।
দলীয় ৩৫ রানে আরাফাত সানির বলে সাকিবের কাছে ক্যাচ দেন উদীয়মান ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন (৩)।
দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া চেষ্টায় থাকলেও দলীয় অর্ধশতকের পর বিদায় নেন কুমার সাঙ্গাকারা (২৯)। আরাফাত সানির বলে বাউন্ডারি লাইনে সৌম্যর কাছে ক্যাচ দেন লঙ্কান এই গ্রেট ব্যাটসম্যান।
১২.৪ ওভারে থিসারা পেরেরার বলে সাকিবের কাছে ক্যাচ দেন রায়ান টেন ডেসকাট (৮)।
৬৩ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ঢাকা। সেই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরের সারির ব্যাটসম্যানরাও।
দলীয় ৭৮ রানে পেরেরার দ্বিতীয় শিকার হন আবুল হাসান (১০)। তার বলে সৌম্যর কাছে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের ফেরেন আবুল। এই ম্যাচে এটি সৌম্যর তৃতীয় ক্যাচ।
এরপর সাকিবের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ফরহাদ রেজা(১)। ব্যক্তিগত চতুর্থ ও শেষ ওভারে এসে আবারও সাকিবের আঘাত। এবার তার বলে রিভার সুইপ করতে গিয়ে আবু জায়েদের কাছে ক্যাচ দেন নাসির হোসেন (১৫)।
শেষের দিকে ইয়াসির শাহ (১২) আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করার চেষ্টায় থাকলে তাকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন থিসারা পেরেরা।
চার ওভারে ১৬ রান খরচায় চার উইকেট নিয়ে রংপুরের সেরা বোলার সাকিব আল হাসান। এছাড়া পেরেরা তিনটি ও আরাফাত সানি দুটি করে উইকেট নেন।
ব্যাট হাতে অপরাজিত ২৪ ও বল হাতে চার উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭৬ রান করে রংপুর।
শুরুতে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লেন্ডল সিমন্স ও সৌম্য সরকার দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন রংপুরকে। কিন্তু বেশি দূর এই জুটিকে স্থায়ী হতে দেননি পেসার মুস্তাফিজুর। ৪.৩ ওভারে তার বলে মোসাদ্দেককে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সৌম্য সরকার। ১০ বলে ১৮ রানে ফেরেন সৌম্য। যেখানে ছিল ৪টি চার। দলীয় ৯৪ রানে ত্রাস ছড়ানো সিমন্সকে ফেরান মোশাররফ হোসেন। ৩৯ বলে সিমন্স ফেরেন ৫১ রানে। যেখানে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছয়। ব্যাট হাতে ভূমিকা রাখেন মিথুনও। বিদায় নেন ৩৪ রানে। এরপর শেষ দিকে ব্যাট হাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন থিসারা পেরেরা ২৭ ও সাকিব আল হাসান ২৪। পেরেরা ২৭ রানে ফিরে গেলেও ২৪ রানে অপরাজিত থাকেন সাকিব।
ঢাকার পক্ষে মুস্তাফিজুর ও ইয়াসির শাহ ২টি করে উইকেট নেন। একটি করে উইকেট নেন পেসার আবুল হাসান ও মোশাররফ হোসেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা ১ ম্যাচ খেলে একটিতেই জয় পেয়েছে। অন্যদিকে রংপুর ২টি ম্যাচ খেলে একটিতে জয়, অন্যটিতে পরাজিত হয়েছে।