শহীদ আহসানউল্লাহ মাষ্টার হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতের দন্ডপ্রাপ্ত ১১ আসামীকে হাইকোর্টের আপীল বিভাগ খালাস দেয়ার প্রতিবাদে অচল গাজীপুর। গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ ও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। রোববার দুপুরে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ১১ আসামির খালাসে হাইকোর্টের আদেশ আপিল বিভাগ কর্তৃক “নো অর্ডার” রায় ঘোষণার প্রতিবাদে তারা এ সড়ক অবরোধ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জনায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রায় ঘোষণার পর পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্থানীয় জনতা টঙ্গীর ষ্টেশন রোড়, মিলগেট, কলেজ গেট এবং চেরাগআলী এলাকায় বেলা ১২টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পরিত্যক্ত টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। এতে ওই মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে সাধারন যাত্রী ও এ্যন্বুলেন্সে থাকা রোগীরা। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তীব্র বৃষ্টি উপেক্ষা করেও ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেতে থাকে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহসানউল্লাহ মাস্টার নিহত হন। পরে ওই মামলায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ আসামিকে মৃত্যুদন্ড এবং ছয় আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেন। ঐ সময় দুই আসামি খালাস পান।
গত ১৫ জুন আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ছয় আসামির মৃত্যুদন্ড ও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন মহামান্য হাইকোর্ট। রায়ে অপর ১১ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। পরে আপিল করলে ১১ আসামিকে খালাস করে দেয়া হাইকোর্টের রায় ১৪ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়। সে অনুযায়ী গতকাল রোববার আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ১১ আসামিকে খালাস দেয়া হাইকোর্টের রায় স্থগিত সংক্রান্ত বিষয়ে ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
শহীদ আহসানউল¬াহ মাষ্টার হত্যা মামলায় হাইকোর্টে ১১ আসামী খালাস দেয়ার প্রতিবাদ
