প্যারিসের হামলার পর ইউরোপের দেশগুলো যদি শরণার্থীদের মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেয়, তা হলে চাপে পড়ে যাবে জার্মানি। যে কারণে জঙ্গিদের সঙ্গে শরণার্থীদের এক করে দেখার প্রবণতা ঠেকাতে বার্লিন তৎপর।
এর আগে জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী যা বলেছিলেন, সোমবার ফের সেই একই কথা বললেন জার্মানির বিচারমন্ত্রী হাইকো মাস। তাঁরও বক্তব্য, প্যারিসে হামলা চালানো জঙ্গি আর ইউরোপে আশ্রয় নিতে আসা উদ্বাস্তুদের মধ্যে তড়িঘড়ি কোনও যোগসূত্র খুঁজে বের করাটা ঠিক হবে না। কারণ, আই এস ঠিক সেটাই চায়।
শরণার্থী সমস্যা নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যে বিতর্ক চলছে, সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে। প্যারিসে হামলাকারী এক আত্মঘাতী জঙ্গির কাছ থেকে সিরীয় পাসপোর্ট পাওয়ার পর এই বিতর্ক আরও ইন্ধন পেয়েছে।
ফরাসি পুলিসের একাংশের ধারণা, অন্তত একজন জঙ্গি সিরীয় শরণার্থীদের ভিড়ের সঙ্গে মিশে ফ্রান্সে ঢুকে পড়েছিল। যদিও ওটা যে জাল পাসপোর্ট হতে পারে, শুরু থেকেই সেই সন্দেহ জানিয়ে আসছেন মার্কিন গোয়েন্দারা। তার পর সোমবার জার্মান বিচারমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি।
সরকারি বেতার সংস্থা এ আর ডি–কে তিনি বললেন, খুব সতর্কভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। কারণ আই এস জঙ্গিরা কুখ্যাত জাল পাসপোর্টের মতো ভুয়ো সূত্র ছড়িয়ে বিভ্রান্ত করার জন্য। তবে এক্ষেত্রে ওদের লক্ষ্য চলতি শরণার্থী সমস্যাকে একটা রাজনৈতিক চেহারা দিয়ে মেরুকরণ ঘটানো, যাতে কট্টরপন্থার প্রসারে সুবিধে হয়। এর আগে জার্মানির সুরেই কথা বলেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট।
সবার উদ্বেগের কারণটাও পরিষ্কার। জঙ্গি হানার ভয়ে ইউরোপের দেশগুলো যদি শরণার্থীদের ঢুকতে না দেয়, তা হলে সমস্যাটা এক ভয়াবহ চেহারা নেবে, যার সুযোগ নেবে আই এস জঙ্গিরা। – আলোকিত মিডিয়া