গ্রাম থেকে প্রযুক্তির আলো ছড়াচ্ছে ময়মনসিংহ সোর্স

1444014305_1743701_403261316509020_6744726057094649277_n

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়ন। যাতায়াত ব্যবস্থা খুব একটা ভালো না, বেশিরভাগ রাস্তাই খানাখন্দে ভরা। ইন্টারনেট সুবিধা অনেকটা না থাকার মতোই। প্রত্যন্ত অঞ্চল হওয়ায় অনলাইন নিয়ে স্থানীয় মানুষজনের ধারণা নেতিবাচক। এসব অবশ্য বছর দুই আগের কথা। এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন।
বর্তমানে সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়নের সঙ্গে এলাকাটির অপরাপর ক্ষেত্রগুলোতেও কিছুটা হলেও লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। আর এসব কিছুর পেছনে আছে এক সময়কার ৩০ কিলোবাইট স্পিডের ইন্টারনেটের অবদান।
এমনই এক গ্রাম থেকেই আরাফাত রহমান নামের এক উদ্যোক্তা তার বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তুলেন ময়মনসিংহসোর্স নামের ছোট এক প্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠান। ২০১১ সাল থেকেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার জন্য নানান পরিকল্পনা হাতে নিতে শুরু করেন তিনি, যা বাস্তবের মুখ দেখে ২০১৪ সালে এসে।
প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরাফাতের সঙ্গে আরও কাজ করছেন জিহাদুর রহমান, রিয়াদ হাসান ও নাঈম ইসলাম।
আরাফাত বিরুনিয়া বাজার দারুল উলুম দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল ও ভালুকার সায়েরা সাফায়েত স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেছেন। এখন চেষ্টা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির।
এগিয়ে যাওয়ার কথা
২০১১ সালের প্রথম দিকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কথা শোনেন আরাফাত। জানতে পারেন ইন্টারনেটে নানা ধরনের কাজ করে টাকা আয় করা যায়। সংকল্প করেন তিনিও সেসব কাজ করবেন। কিন্তু তখনও ভালো করে প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে জানতেন না বলে কাজ শুরু করতে পারেননি।
২০১২ সালের জুলাইয়ের দিকে আরাফাত ময়মনসিংহ সদরে তার এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ইন্টারনেটভিত্তিক কিছু কাজ শেখেন। ঠিক সে সময় ওয়েবসাইট সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পান।
আর তখন ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্টসহ কিছু কাজ জেনে নেন। এর সাথে ইউটিউব দেখেও কাজ করতে থাকেন আরাফাত রহমান।
আরাফাত বলেন, দাখিল পরীক্ষার জন্য আমি পরিপূর্ণভাবে কাজে নামতে পারছিলাম না। পরে ২০১৩ সালে দাখিল পরীক্ষা দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করি। জিহাদুর রহমান আমার ছোট হলেও সে প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক জানতো। সেও আমার সাথে যোগ দেয়।
এরপর আমরা ২০১৪ সালে ‘ময়মনসিংহসোর্স’ নাম দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর চেষ্টা করি। একেবারে গ্রাম থেকে কাজটা শুরু করি।
প্রতিবন্ধকতা
কাজে অবশ্যই প্রতিবন্ধকতা আসবে। তাই বলে থেমে যাওয়া ঠিক নয়। এসব কাজ করতে গেলে অবশ্যই ধৈর্য প্রয়োজন।
আরাফাত বলেন, যখন তারা কাজ শুরু করেন, তখন ইন্টারনেট স্পিড খুব কম ছিল। আবার অনেক সময় ইন্টারনেট থাকত না। কিন্তু তারপরও ধৈর্যহারা না হলে কাজ এগিয়ে নিয়েছেন।
বর্তমান অবস্থা ময়মনসিংহসোর্স ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকা, অনলাইন টিভিসহ বিভিন্ন কোম্পানির ওয়েবসাইট ডেভেলপ করেছে। এরই মধ্যে ময়মনসিংহ শহরে একটি অফিস নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটিতে এখন চারজন কাজ করলেও শিগগিরই আরও লোকবল নিয়োগ করা হবে।
যেসব সেবা দেয় ময়মনসিংহ সোর্স
ওয়েবসাইট সংক্রান্ত বেশ কিছু সেবা দেয় ময়মনসিংহ সোর্স। এসব সেবার মধ্যে ডোমেইন নিবন্ধন, ডোমেইন মালিকানা পরিবর্তন, ডোমেইন রিসেলার, ওয়েব হোস্টিং, ওয়েবসাইট ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, বাল্ক এসএমএস, ই-মেইল মার্কেটিং, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইএ)।
প্রচারণা
আরাফাত বলেন, প্রচারণার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে ফেইসবুককেই বেছে নিয়েছি। কেননা এখন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ফেইসবুকে সক্রিয় থাকে বেশি। তাছাড়া আমাদের কাজ ও পুরাতন ক্লায়েন্টদেরকে প্রচারণার অন্যতম মাধ্যম বলা যায়।
সরকারের ভূমিকা
দেশের প্রযুক্তি উন্নয়নে বর্তমান সরকারের ভূমিকা অসামান্য। এই খাতের উন্নয়নে সরকারের উচিত দেশে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত ও সহযোগিতা করা।
তরুন এ উদ্যোক্তার মতে সরকারের বিভিন্ন প্রজেক্টের কাজ দেশীয় তরুণ উদ্যোক্তাদের দ্বারা করানো হলে দেশের প্রযুক্তিখাত আরও বেশি এগিয়ে যাবে।
যেখানে দেখতে চাই
ছোট উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্তমানে ময়মনসিংহসোর্স যেসব সেবা দিচ্ছে সেগুলোর পরিমাণ ও মান উন্নত করতে চান তরুন উদ্যোক্তাদের এ দল। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কাতারে নিয়ে যেতে চান তারা।
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ
আরাফাত বলেন, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট একটি সৃজনশীল কাজ। তাই এটি করতে গেলে অবশ্যই মেধা, ধৈর্য্য ও সততার প্রয়োজন। ভালো মানের ডেভেলপার হতে গেলে অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তবে হঠাৎ সাফল্য লাভের চিন্তা না করাই ভালো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *