গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ডিবি পুলিশের নেয়া আসামী পালিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে জরুরী বিভাগে কর্মরত নার্সকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ডাক্তার ও নার্সরা।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার সময় এঘটনা ঘটে। পরে হাসপাতালের স্টাফরা দায়ী পুলিশের বিচার দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে এবং সিভিল সার্জনের বাসার সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়।
হাসপাতাল সুত্র জানায়, রিফাত নামে এক আসামীকে ডিবি পুলিশের এস আই মুসফিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত নার্স আবু ফজল সেবা দেয়। চিকিৎসার সময় পুলিশ সদস্যরা বাইরে সিগারেট খেতে যায় এই সুযোগে আসামী পালিয়ে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশ নার্স আবু ফজলকে মারধর করে এবং পুলিশের গাড়ীতে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে।
ডিবি পুলিশের এস আই মুসফিক সাংবাদিকদের কাছে দাবী করেন, নার্স আবু ফজল আসামী পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।
জেলা ডিবি পুলিশের এসআই ইকবাল হোসেন জানান, চিকিৎসার জন্য আসামি রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সে এক নার্সের সহযোগিতায় পালিয়ে যায়। তবে সেখানে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।
সিভিল সার্জন ডা: আলী হায়দার জানান, বিষয়টি সরকারের উচ্চ মহলে জানানো হয়েছে। পরে রাত ২টার দিকে ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আমির হোসেন হাসপাতালে এসে দায়ী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আশ্বাস দেন।
এ ব্যাপারে মেডিকেল কলেজের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদের সভাপতি হাবিব মুঠোফোনে বলেন, ডিবি পুলিশের সদস্যরা রিফাত নামে ওই আসামিকে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ড. আবুল কালাম আজাদের কাছে নিয়ে আসেন। ডিবি পুলিশ ও চিকিৎসকের অনুপস্থিতির সুযোগে ওই আসামি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, আসামি পলায়নের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ডিবি পুলিশ চিকিৎসকের কক্ষে জোরপূর্বক তালা দিতে গেলে হাসপাতালের নার্সদের সাথে তাদের ধাক্কা-ধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে আবু ফজল আহত হন।
এ ঘটনায় জড়িত ডিবি পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবিতে হাসপাতালের কর্মরত নার্সরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে মিছিলটি জেলা সিভিল সার্জন হায়দার আলীর কার্যালয়ের সামনে শেষ হয়।
হাবিব বলেন, দোষী ডিবি সদস্যদের বিচারের বিষয়টি মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের সব ধরনের সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমীর হোসেন ও সিভিল সার্জন হায়দার আলী বিষয়টি মীমাংসার জন্য মেডিকেল কলেজে এক জরুরি সভায় বসেছেন।