প্রায় সোয়া ২শ বছরের ঐতিহ্য ভেঙে ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড থেকে কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত করা হলো কেন্দ্রীয় কারাগার। একই সঙ্গে বদলে গেছে কারা স্থাপনার লাল রংও।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার সকাল ১০টায় কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুরে নবনির্মিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধন করেছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও কারা মহাপরিদর্শক (আইজি–প্রিজন) ব্রি. জে. সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।
উদ্বোধনের পর জেলার ও আইজি–প্রিজন কারাগারের সুযোগ–সুবিধা ও আধুনিকতা সম্পর্কে শেখ হাসিনাকে ব্রিফ করেন।
এশিয়ার সর্বাধুনিক ও বৃহত্তম মডেল এ কারাগার। নবনির্মিত এ কারাগারে এক সঙ্গে প্রায় ৪ হাজার ৫৯০ জন পুরুষ বন্দি রাখা যাবে। পুরুষ কারাগারটির পাশে নতুন একটি নারী কারাগার নির্মাণাধীন রয়েছে। সেটি নির্মাণ শেষ হলে ২৭০ নারী বন্দি থাকতে পারবেন।
জমি অধিগ্রহণ, ভরাটসহ আধুনিক এই কারাগারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪০৬ কোটি টাকা। এই প্রকল্পে পুরুষ কারাগারের পাশে আলাদাভাবে একটি মহিলা কারাগার নির্মাণ করা হয়েছে।
২০১৫ সালের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে কারাগারটি উদ্বোধন করার কথা থাকলেও ফিনিশিংয়ের কিছু কাজ বাকি থাকায় উদ্বোধনে বিলম্ব হয়। শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে আইজি প্রিজন বলেন, কারাগারটির ৮৯ ভাগ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। কারাগারটিতে পুরুষ এবং মহিলা কয়েদিদের জন্য আলাদা ভবন রয়েছে। তবে নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় আপাতত নারী আসামিদের কাশিমপুরে পাঠানো হবে।
অত্যাধুনিক এই কারাগারে লাগেজ এবং পার্সোন স্ক্যানার রয়েছে। কেউ মোবাইল কিংবা মাদক নিয়ে ভেতরে ঢুকতে পারবে না বলে দাবি করেন আইজি–প্রিজন।
কারা অধিদফতর সূত্র জানায়, বর্তমানে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দীন রোডে স্থাপিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নতুন কারাগারের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার।
এর আগে ১৯৮০ সালের দিকে কারাগারের আশপাশে বেশ কয়েকটি বড় বড় আবাসিক ভবন গড়ে উঠে। এতে কারাগারের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা উভয়ই বিঘ্নিত হচ্ছে বলে উপলব্ধি করে তৎকালীন সরকার। সেবছরের ১৬ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাউন্সিলের একটি সভায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সরানোর বিষয়টি প্রথম উঠে আসে। ১৯৯৪ সালে একে চূড়ান্তভাবে সরিয়ে দুটি কারাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে একটি গাজীপুরের কাশিমপুর ও অন্যটি কেরানীগঞ্জে।
অবশেষে ২০০৬ সালে একনেকে কেরানীগঞ্জে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় জমি অধিগ্রহণের কাজ। বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয় ২০১১ সালের জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু পরে তিন দফায় প্রকল্প মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০১৭ সাল পর্যন্ত।
১৭৮৮ সালে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় এ কারাগারটি স্থাপিত হয়। পুরাতন কারাগারের জমিতে ভবিষ্যতে পার্ক, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ব্যায়ামাগার ও কনভেনশন সেন্টার, জাদুঘর প্রভৃতি নির্মাণ করা হবে জানা গেছে।