টাঙ্গাইল–৪ (কালীহাতি) আসনের উপ–নির্বাচনে বাতিল হওয়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
পাশাপাশি কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়ন বাতিলে টাঙ্গাইল জেলার রিটার্নিং অফিসারের ১৩ আগস্ট ও নির্বাচন কমিশনের নেয়া ১৮ আগস্টের নেয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে বলেছেন উচ্চ আদালত।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি), প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইস), টাঙ্গাইলের জেলা রিটার্নিং কর্মকতা, অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংককে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
প্রার্থিতা বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর রিটের শুনানি করে বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের অবকাশকালীন বেঞ্চ বুধবার এ আদেশ দেন।
বিষয়টি বাংলামেইলকে জানিয়েছেন কাদের সিদ্দিকীর আইনজীবী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী।
আদালতে কাদের সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানি করেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিএনপি চেয়ার পারসনের উপদেষ্টা এ জে মোহাম্মদ আলী। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট রুবায়েত হোসেন। অরপদিকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে আদালতে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম।
পরে আদালত থেকে বেরিয়ে আইনজীবী রাগীব রউফ বলেন, ‘হাইকোর্টের এ আদেশের ফলে কাদের সিদ্দিকী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, আর কোনো বাধা নেই ‘
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কাদের সিদ্দিকীর ঋণখেলাপির বিষয়ে পাওয়া নথির প্রেক্ষিতে তার মনোয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কাদের সিদ্দিকীর লোনের ওপর সুদ মওকুফ করেছে এবং লোন পরিশোধ করতে দশ বছরের সময় দিয়েছে। এজন্য আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে কাদের সিদ্দিকীর বাধা ছিল না। তারপরও নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন।’
এদিকে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তওহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, তারা (নির্বাচন কমিশন) হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল–৪ (কালিহাতী) আসন থেকে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন কাদের সিদ্দিকীর ভাই লতিফ সিদ্দিকী। গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করে ৩ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে সংসদ সচিবালয়।
এরপর নির্বাচন কমিশন এ আসনে উপ–নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। সে মোতাবেক আগামী ১০ নভেম্বর এ আসনে উপ–নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এতে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী হিসেবে কাদের সিদ্দিকী ও তার স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। কিন্তু ঋণখেলাপির অভিযোগে গত ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এরপর গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার এই দুই নেতা রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল আবেদন করেন।
গত রোববার বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন কাদের সিদ্দিকীর আপিল খারিজ করে রায় দেন। এ খারিজাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টে রিট করেন কাদের সিদ্দিকী।