টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ বাহারছড়ায় পাহাড় ধসে
মাটি চাপা পড়ে দুই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
সোমবার রাত ২টার দিকে কবরস্থান পাড়ার রাডার স্টেশন এলাকায় এ ঘটনায় দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন কর্মকর্তা আব্দুল মজিদ বলেন, “পাহাড় ধসে চারটি বসত বাড়ি মাটিচাপা পড়ায় হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।” নিহতরা হলেন- স্থানীয় খায়রুল আমিনের স্ত্রী জুনু বেগম (২৮) ও তার মেয়ে নীহা মনি (৭) এবং শাহ আলম (৪৫), তার স্ত্রী রোকেয়া আক্তার (৩৩) ও তাদের মেয়ে রিনা আক্তার (৯)। শাহ আলম (২৮) ও নুরুন নবী (২২) নামের দুইজনকে জীবিত উদ্ধারের পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে নুরুন নবীকে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে জীবিত উদ্ধার করা হয়। আর রোকেয়া ও রিনার লাশ পাওয়া যায় দুপুরের দিকে। আব্দুল মজিদ জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে জেলা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় সেনাবাহিনী। ভোরে পেকুয়া ও চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি দল উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। “বাড়িগুলো প্রায় ১০/১২ ফুট মাটির নিচে চাপা পড়ায় এবং ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিতে না পারায় উদ্ধার অভিযান শেষ করতে সময় লাগে।” আহত নুরুন নবী হাসপাতালে বলেন, রাত ২টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড় থেকে মাটি ধসে তার বাড়ির উপর পড়ে। পেটান আলী নামে ক্ষতিগ্রস্ত আরেকজন জানান, তার বাড়ির ক্ষতি হলেও পরিবারের সবাই অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক অনুপম সাহা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ, সিভিল সার্জন ডা. কমর উদ্দিন ও সদর থানার ওসি মতিউর রহমান সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক অনুপম সাহা জানান, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে রোববার সকাল থেকেই কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন প্রচার শুরু করে। তার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।