এরশাদ-রওশনকে এক গাড়িতে চড়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

রওশনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, তারা দুজন (এরশাদের সঙ্গে) যদি এক গাড়িতে আসতেন তাহলে যানজটও কিছুটা কমত।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত। অন্যদিকে সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন। এরশাদ বর্তমানে বারিধারায় থাকেন; রওশন থাকেন গুলশান ২ নম্বরে।

দলে কর্তৃত্ব নিয়ে দুজনের মধ্যে রেশারেশির খবর বিভিন্ন সময় সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। সম্প্রতি নারী সাংসদদের নিয়ে দুজনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও শোনা গেছে সংসদে।বুধবার সংসদে সমাপনী ভাষণে রওশন এরশাদ যানজটের কারণে ইফতারে অংশ নিতে না পারার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে যানজট নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তার বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমি খুবই দুঃখিত বিরোধী দলীয় নেত্রী আমার ইফতার পার্টিতে আসেননি যানজটের কারণে। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি যতই হচ্ছে মানুষের গাড়ি ক্রয় করাও বাড়ছে। আপনারই ধরেন না। এরশাদ সাহেব, উনি আসলেন আমার ইফতার পার্টিতে; আপনি আসতে পারলেন না। কিন্তু আপনারা দুজন যদি একটি গাড়িতে আসতেন!”

এসময় পুরো সংসদ কক্ষে হাসির রোল পড়ে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকেও হাসতে দেখা যায়। তবে রওশনের কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

শেখ হাসিনা বলেন,“বিরোধী দলীয় নেত্রী আপনি নিজেই বিবেচনা করে দেখেন যে,এই দুখানা গাড়ি, তার মানে যানজটটা একটু বাড়ল। আর একখানা গাড়িতে এলে যানজটটা একটু কমত। এভাবে সবাই যদি বিবেচনা করে চলে তাহলে যানজটটা একটু কমানো যায়।”

গত ৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে রাজনীতিবিদদের সম্মানে ইফতার পার্টির আয়োজন করেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ওই ইফতার পার্টিতে আসার জন্য বাসভবন থেকে রওয়ানা দিলেও যানজট ঠেলে গণভবনের কাছাকাছি পৌঁছাতেই ইফতারের সময় হয়ে যায়।

পরে তিনি আর গণভবনের ইফতার পার্টিতে যোগ না দিয়ে বাসায় ফিরে যান। অপরদিকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সময়মত পৌঁছে প্রধানমন্ত্রীর ইফতারে যোগ দেন।

‘ছদ্মবেশে বের হন, আসল চিত্র পাবেন’

প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের লোকজন তাকে দেশের মানুষের সঠিক তথ্য দেন না বলে মনে করেন রওশন এরশাদ।

তিনি বলেছেন, সঠিক তথ্য পেতে হলে প্রয়োজনে ছদ্মবেশ ধারণ করে মানুষের কাছে যেতে হবে।

সংসদে ষষ্ঠ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে রাজধানীতে যানজট, দূষণ, ভূমিকম্প ঝুঁকি, বস্তিবাসীর দুর্ভোগ, খাদ্যে ভেজাল, মাদক ও জনদুর্ভোগের নানা বিষয় তুলে ধরেন বিরোধী দলীয় নেতা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আপনি ছদ্মবেশে সঠিক খোঁজখবর নিন। আপনার পাশে যারা রয়েছেন তারা সঠিক কথা বলেন না। আপনি রাতে বের হন, প্রয়োজনে বোরকা পরে বের হন। অনুরোধ করব- মানুষ কীভাবে আছে তা দেখেন।”

সমাপনী ভাষণের শুরুতে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং যুক্তরাজ্যে নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন কন্যাকে অভিনন্দন জানান বিরোধী দলীয় নেতা।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থানও ব্যাখ্যা করেন রওশন।

তিনি বলেন, “চলতি সংসদে বিরোধী দল সঠিক ভূমিকা পালন করছে। এর আগে কখনও বাজেট পাস ও ধন্যবাদ আলোচনায় বিরোধী দল উপস্থিত ছিল না। আমরাই গতবার ও এবার বাজেটের পুরো কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলাম। বিরোধী দল হিসেবে আমরাই সঠিক ভূমিকা পালন করেছি।”

বিএনপির বয়কটের মধ্যে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়ে দশম সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসে জাতীয় পার্টি।

একইসঙ্গে তারা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ায় বিরোধী দল হিসেবে তাদের সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রওশন এরশাদ বলেন, “বর্তমানে বিরোধী দল গঠনমূলক ও সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ছোট বিরোধী দল হলেও আমরা দেখিয়ে দিতে চাচ্ছি- বিরোধী দল কী ভূমিকা রাখে, কী ভূমিকা রাখা উচিত। সংসদকে প্রাণবন্ত করতে আমাদের ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করেছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *