রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে চুক্তিসই

RUPU

দেশের প্রথম পাবনা রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে যসরকার। ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার (১ লাখ এক হাজার কোটি টাকা ) ব্যয়ে এ কেন্দ্র নির্মাণ করবে রাশিয়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয়এক্সপার্ট।

চুক্তি বাস্তবায়নের সময়কাল সাত বছর ধরা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ এবং পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল সৃষ্টি করবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম পর্যায়ের কাজ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এরপর মূল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নকশা প্রণয়নের কাজ শেষ করেছে এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।

রাশিয়া এবং বাংলাদেশের মধ্যে ১৩ দফা আলোচনার ভিত্তিতে ৪৭টি অনুচ্ছেদ এবং ৫৭৩টি উপ-অনুচ্ছেদে চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয়। চুক্তির প্রস্তাব গত ২৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার অনুমোদন দেয় সরকার।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় রাজধানীর হোটেলে সোনারগাঁওয়ে সরকারে পক্ষে বাংলাদেশ পারমাণবিক কমিশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো: মনিরুল ইসলাম এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয়এক্সপার্ট এর সিনিয়র ভাইসপ্রেসিডেন্ট সুভাষ কিং চুক্তিপত্রে সই করেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।  এ সময় জ্বালানী উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী, কৃষি মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম,রাশিয়ার রাষ্ট্রদ্রুত, বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের সচিব, বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,  রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মূল চুক্তি। যেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নকশা, যন্ত্রাংশ সরবরাহ, কেন্দ্র নির্মাণ, উৎপাদন, নিশ্চয়তা বা গ্যারান্টি, পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ কেন্দ্র পর্যন্ত যন্ত্রাংশ পরিবহন এবং গ্যারান্টি পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সেবা প্রদানের কথা উল্লেখ রয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়নের সময়কাল সাত বছর ধরা হয়েছে।

রাশিয়া এবং বাংলাদেশের মধ্যে ১৩ দফা আলোচনার ভিত্তিতে ৪৭টি অনুচ্ছেদ এবং ৫৭৩টি উপ-অনুচ্ছেদে চুক্তিটি চূড়ান্ত করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ এবং পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল সৃষ্টি করবে।

এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর ঢাকায় রূপপুর প্রকল্প নিয়ে অনুস্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ও রাশিয়া । প্রকল্প ব্যয়ের  ৯০ শতাংশ অর্থাৎ ১১ দশমকি ৩৮৫ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশকে ঋণ হিসেবে দেবে রাশিয়া। এ বিষয়ে আগামী মার্চ বা এপ্রিলে এই ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে ব্যয় হবে এক দশমিক ২৬৫ বিলিয়ন ডলার।

ঋণ পরিশোধের সময়কাল ২৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ বছর গ্রেস প্রিরিয়ড রয়েছে। ছয় মাসের লাইবরের সঙ্গে এক দশমিক ৭৫ শতাংশ যোগ করে ঋণের সুদ হার নির্ধারণ করা হবে। তবে সুদের হার কোনক্রমেই বছরে চার ভাগের বেশি হতে পারবে না।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালের অক্টোবরে উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে। এর এক বছর পর দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালের অক্টোবরে উৎপাদনে আসবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ৫০ বছর ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এর জন্য জ্বালানি রাশিয়ার কাছ থেকে ভাড়া নেয়া হবে। ব্যবহার শেষে ওই জ্বালানি বর্জ্য ফেরত নেবে রাশিয়া। কেন্দ্রের সব যন্ত্র আনা হবে পানি পথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *